Take a fresh look at your lifestyle.

‘হাবুডুবু খাচ্ছি, চিকিৎসকদের সহযোগিতা না পেলে সেবা করা অসম্ভব’ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৬৭

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
দেশের চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সবাই সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে সততা ও নিষ্ঠার লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। অন্যথায় এতো বিশাল খাতের তত্ত্বাবধান করা অত্যন্ত কঠিন।

আজ শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে  সোসাইটি অব সার্জন্স অব বাংলাদেশের ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিক্স’র প্রোগ্রামে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটাই অনুরোধ করবো, আপনারা অত্যন্ত সম্মানিত শ্রেণী। আমি মন্ত্রী, আমি হাবুডুবু খাচ্ছি। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন, এই মন্ত্রণালয়ে থেকে মানুষের সেবা করা অসম্ভব। একেবারেই অসম্ভব। আপনাদের সহকর্মী তৃণমূল পর্যায়ে চাকরি করছেন, তাদের দিনে যদি দশটা মিনিটও সময় দেন, আপনারা জ্যেষ্ঠ সম্মানিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে যা শুনে যাচ্ছেন, ইউ আর নেক্সট টু গড। আপনারা যদি একেকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে গ্রাম পর্যায়ে বলেন অথবা আপনাদের অনেকেই জেলা পর্যায়ে রোগী দেখতে যান, যদি আপনার দুজনকে সহকর্মী বলেন, … এভাবে হয় তো আমরা একটা সময় আমাদের সততা ও নিষ্ঠার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবো। এ ব্যাপারে সবাই সমন্বিতভাবে এগিয়ে না এলে এতো বিশাল খাতের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান করা কঠিন।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি আজকের এই প্রোগ্রামে এসেছি, শুধু একটি কথা বলতে যে, আমি জাতির সেবার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই, আমার জন্য না। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়টাকে সম্পূর্ণরূপে দুষ্কৃতিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই; সন্ত্রাস মানে মারামারি না, কলমের সন্ত্রাস, সিদ্ধান্তের সন্ত্রাস। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের ডাক্তারদের যেন একটি সম্মানিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। আর এটা করা মানে বাংলাদেশের আঠার কোটি মানুষের উপকার।

এ সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের অনুপস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন মন্ত্রী। বলেন, ‘… তোমাদের অ্যাপয়ন্টেড ডাক্তার কে? কয়, নেই। কে আছেন? কয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আসেন। কয়টায় আসেন? কয় স্যার, যখন ডাকি তখন আসেন। যখন-তখন তো আসতে পারেন না। কারা আসে যখন-তখন? উনারা তো আমাদের ডাক্তার। সরকারি বেতন দিই। গরিব মানুষের টাকা।

তিনি বলেন, ‘মনে করেন একজন ডাক্তার মেডিকেলে খুব অ্যাডজস্টেড হয়ে গেল কাজ করে। একজন গুরুতর রোগীকে নিয়ে চিন্তা করছেন অস্ত্রোপচরের জন্য। একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেল। ক্লিনিক কী? একটি চিপা গলি, দুইটা রুম—মাল বানানোর আড্ডাখানা। ওখানে দৌড়াতে গিয়ে হাসপাতালে রোগীদের কতক্ষণ সময় দিতে পারেন?

‘বিশ্বাস ভঙ্গ করেন আপনার সাথে আপনিই, আপনার শিক্ষার সাথে আপনিই। তাহলে ভাবতে হবে আপনারা মানবের সেবা দেওয়া থেকে দূরে সরে গেছেন, যেই সেবার জন্য শিক্ষিত হয়েছেন’—যোগ করেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউএইচএফপিও ফোরামের এক আলোচনায় চিকিৎসকদের প্রশংসা করা হয়েছে। আবার এটাও স্বীকার করা হয়ে যে, কিছু কিছু দুষ্টু ডাক্তারের জন্য সবার বদনাম হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তিনি সময় দিতে সম্মত হয়েছেন। হয় তো আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ইউএইচএফপিওদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.