Take a fresh look at your lifestyle.

ডাঃ সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর মন্তব্য

৬৮

 

সরকার গঠণের একমাস পেরিয়ে গেছে। সরকার তার স্বাস্হ্যনীতি কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে পুরোপুরিভাবে।

অথচ, মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান, যে সব অবস্থান মধ্য দিয়ে সরকার তার নীতিমালা কার্যকর করবে, সেগুলোতে বহাল তবিয়তে দায়িত্বে রয়েছে বিএনপি এবং বিএনপি সরকারের চরম বিরোধিতাকারী, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী কর্মকর্তারা। আর আছে ৫ই আগষ্টের পরে নিজবেশ ধারী কিম্বা ছদ্মবেশী জামাতিরা।

তাহলে বিএনপি সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে কারা ?

স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তর, এই তিনটি অধিদপ্তর স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালনার মূল কেন্দ্র।

অথচ, এই তিনটিতেই যারা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় বেশীর ভাগ পরিচালক বিএনপি সরকারী বিরোধী। যদিও তারা এখন বিভিন্ন ধান্ধাবাজ লোকজনের শরণাপন্ন হয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত লোকজনের কাছে পৌঁছে ফুলজল দিয়ে, হাত মুসাফা করে নিজেদেরকে সরকারের অনুগত প্রমানের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

অথচ, এই সব কর্মকর্তার কারণেই বছরের পর বছর জাতীয়তাবাদী মনা চিকিৎসকরা নির্যাতিত, নিপিড়ীত ও বঞ্চিত হয়েছে কঠোরভাবে।

এদের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সুদ্ধান্ত নিতে হবে। এখনও এই সময়ে তাদেরকে যদি না সরানো হয়, যদি নিয়ন্ত্রণের স্হানগুলোতে জাতীয়তাবাদীমনা যোগ্য চিকিৎসকদের স্হান না দেয়া হয়, তবে সরকারের স্বাস্হ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

শুধু স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরের কথাই যদি বলি, পরিকল্পনা, গবেষণা, উন্নয়ন থেকে শুরু করে অর্থ, হাসপাতাল, শৃঙ্খলা, প্রাইমারী হেলথকেয়ার, আইইডিসিআর,নিপসম, এমবিডিসি, সিএমএসডি, অডিট, আইন পর্যন্ত কমছে কম গোটা দশেক গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক পদে সবাই “শেখ হাসিনা’স ওমেন এন্ড মেন”রা পায়ের উপর ঠ্যাং তুলে দাবড়ে বেড়াচ্ছে আগের চাইতে আরও বেশী এগ্রেসিভলি।

উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক এসব পর্যায়ে কিছুটা মিক্সিং থাকলেও কোথাও কোথাও পরিস্হিতি আগের মতই।

ইউনুস সরকার বাছাই করে বেশীরভাগ জেলার স্বাস্হ্যের কোর অফিসার সিভিলসার্জন বসিয়ে গেছে ইনকিলাবজামাত জিন্দাবাদ মার্কা। যদির এদের মধ্যে অনেকেই ছুপারুস্তুম। কিন্তু, পরিচয় ঠিক ঠিক আছে জায়গামতন।

মপডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট, পরিচালক, সব একই অবস্হা।

অন্য দুই দপ্তরের অবস্হা বুঝদাররা বুঝে নিবে নিশ্চয়ই।

এসব বিষয়ে মুখ বুজে থাকার কিছু নাই। এদের অত্যাচার, নির্যাতন এবং দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি কারও কারও ক্ষেত্রে জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করার মতন।
কিন্তু, কি সব অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে সবাই ফিস ফিস করে কথা বলে। জোরে কথা বলতে পারেনা। এমনকি, এদের কিছু শিষ্য জুনিয়র অফিসার আছে, যাদেরকে মিনিস্ট্রি থেকে পর্যন্ত সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়, অদৃশ্য কারণে।

এসব থেকে দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগকে মুক্ত করুন। মুক্তি দিন৷ অন্যথায়, সময় গেলে সাধন হবেনা। সাধন হবে, তবে সেটি ” ঝর বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি হাসিনার সাথে”, নতুবা ইনকিলাব জিন্দাবাদের,
– বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশ পন্হীদের নয়।

( লেখাটি সামগ্রিক অর্থে। কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে নিবেননা)
লেখক : উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Leave A Reply

Your email address will not be published.