Take a fresh look at your lifestyle.

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতীদের রোজা না রাখার পরামর্শ ডা. মুসাররাত সুলতানার

৭১

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা রোজা রাখলে মা ও শিশু উভয়েরই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর সুস্থ হয়ে রোজা রাখার পরামর্শ দেন এই গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মিলন অডিটোরিয়ামে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ ও ঢামেক শিক্ষক সমিতির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রমজান আপডেট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

হজ কিংবা ওমরা পালনের সময় আরও বেশি সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হজ বা ওমরায় ডায়াবেটিস রোগীরা জমজমের পানি ও খেজুর গ্রহণ করেন। অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত খেজুর খেলেও এ সময় রক্তের গ্লুকোজ বাড়বে না এবং সুগার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে আরও সচেতন করতে হবে এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে।

ইসলাম এত কঠিন ধর্ম নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।
হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সার্বিক সহযোগিতায় ঢামেকের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম. সাইফুদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফিরোজ হোসেন, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কমলেশচন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক ডা. তানজিনা জান্নাত সাম্মি, মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিজিএম মো. মাঈনুল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, এন্ডোক্রাইনোলজিস্টদের অনেক সোসাইটি রয়েছে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রথম রমজান থেকেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রমজানের আগে থেকে রোজা রাখার অনুশীলন করা গেলে তা আরও ভালো। রমজান মুসলমানদের জন্য একটি আবেগের মাস। রোগীদের এই আবেগে আঘাত না করে সঠিক চিকিৎসা পরিচালনা করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দিন দিন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বেড়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। রোজা মুসলমানদের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। তাই কাউন্সেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, ঢামেকের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের ১০২ নম্বর কক্ষে ডায়াবেটিস রোগীদের সব ধরনের কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। রোগীদের সেখানে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বিষয়ে ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ ও এমডি ডিগ্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৩.৯ হলে রোজা ভেঙে ফেলতে বলা হয়, আর স্কোর ৬.৫-এর নিচে থাকলে রোজা রাখা সম্ভব। বর্তমানে ডায়াবেটিস নিয়ে আগের মতো ভয় নেই। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নতুন ও কার্যকর ওষুধও এসেছে।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখা ঝুঁকিভিত্তিক হতে হবে। ঝুঁকি থাকলে রোজা রাখা যাবে না। রোজার চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে থেকেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আসতে হবে। রোজা রেখে রক্তের গ্লুকোজ মাপলে রোজা ভাঙে না, এটি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী স্বীকৃত।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আবার অনেকেই ইফতারের পর না খেয়ে সেহরিতে খান, এতে ডায়াবেটিস আরও বেড়ে যায়।

এ সময় বক্তারা আরও বলেন, রোজা রেখে নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর গ্লুকোজ মাপতে হবে, কারণ রোজা রেখে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শরীর খারাপ লাগলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। রোজা রেখে রক্তের গ্লুকোজ মাপা যাবে। রোজার সময় ছাড়া অন্যান্য সময় পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ঢামেকের চিকিৎসকদের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় রমজানের আগের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেকের ধারণা, ডায়াবেটিস হলেই বেশি হাঁটাহাঁটি করতে হবে। হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম উপকারী হলেও ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.