Take a fresh look at your lifestyle.

যে বয়স থেকে কমতে শুরু করে শরীরের ফিটনেস, বিজ্ঞানীরা যা বলছেন

৭৫

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি ও ফিটনেস ধীরে ধীরে কমে—এটি জানা থাকলেও ঠিক কোন বয়স থেকে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়, তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না। এবার বিজ্ঞানীরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।

সুইডেনের ক্যারোলিনেস্কা ইনস্টিটিউটের এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীরের ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতায় ধীরে ধীরে অবনতি শুরু হয়।

প্রায় পাঁচ দশকের পর্যবেক্ষণ

গবেষণাটিতে কয়েক শ’ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা প্রায় ৪৭ বছর ধরে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ফিটনেস, শারীরিক শক্তি এবং পেশির (মাসল) আকার ও সক্ষমতা বয়ঃসন্ধি শুরু থেকে ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত মূল্যায়ন করা হয়।

গবেষণায় বয়সের সঙ্গে শরীরে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ঘটে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আগের গবেষণার চেয়ে আলাদা কেন?

গবেষকরা জানান, আগের বেশিভাগ গবেষণায় বিভিন্ন ডেটাবেস বিশ্লেষণ করা হলেও একই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়নি। কিন্তু এই গবেষণায় একই ব্যক্তিদের প্রায় পাঁচ দশক ধরে একই পদ্ধতিতে শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়েছে, যা গবেষণাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

৩৫-এর পর শুরু হয় ধীর অবনতি

গবেষণার ফল অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়স বা তার পর থেকেই শরীরের ফিটনেস ও শক্তি কমতে শুরু করে, এমনকি কেউ যদি তরুণ বয়সে নিয়মিত ও কঠোর ব্যায়াম করেও থাকেন।

এই বয়সের পর শারীরিক অবনতি ধীরে ধীরে চলতে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গতি আরও বাড়তে থাকে।

ব্যায়াম করলে কী লাভ হয়?

গবেষণায় একটি আশাব্যঞ্জক তথ্যও উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, ৩৫ বছরের পর কিংবা যে কোনো বয়সে নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করলে শরীরের এই অবনতির গতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব।

তারা বলেন, মানুষ যে কোনো বয়সেই শরীরচর্চা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে পারেন। গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা ফিটনেসের অবনতি পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও, তা উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দিতে পারে।

গবেষণা এখনো চলমান

গবেষণাটি এখানেই শেষ নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ৫ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে বয়সের সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতায় যে পরিবর্তন আসে, তা আরও গভীরভাবে বোঝা সম্ভব হবে বলে তাঁদের আশা।

গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল Cachexia, Sarcopenia and Muscle-এ।

সূত্র : জিও নিউজ

Leave A Reply

Your email address will not be published.