হেলথ ইনফো ডেস্ক :
চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সেবার অঙ্গীকার উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একজন চিকিৎসকের কাছে ঢাকা শহরের রোগী আর প্রত্যন্ত গ্রামের রোগীর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়।
দেশের প্রতিটি মানুষ সমান স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই চিকিৎসকদের শহর-গ্রাম ভেদাভেদ না করে সমান আন্তরিকতা ও মানবিকতা নিয়ে সেবা দিতে হবে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলনায়তন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রোগীকে শুধু ওষুধ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন চিকিৎসক যদি হাসিমুখে রোগীর সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে সেই রোগী মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন।’
তিনি বলেন, মানুষ জীবনের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে আল্লাহর পর একজন চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে। সে কারণে চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা (মেডিকেল এথিক্স) এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
করোনা মহামারি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা সীমিত সম্পদ নিয়েও অসাধারণ নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকাতেও তাঁরা ছুটি উপেক্ষা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ১০ ও ২০ শয্যার হাসপাতাল এবং পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। আগামী মাস থেকেই এসব উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
এ সময় চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকারের আন্তরিকতার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি ঢামেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই নিষ্ঠা, সততা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিকতা নিয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়তে পারে, কিন্তু রোগীর সেবা কখনো অপেক্ষা করতে পারে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমূখ।


