হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে না রেখে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের প্রতি বিনয়, দায়বদ্ধতা এবং আন্তরিকতা নিয়ে সেবা করতে চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ আহ্বানও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
আজ বুধবার (১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ বা আইসিইউ স্থাপন করা হলেও চিকিৎসকদের সুন্দর ব্যবহার এবং আন্তরিকতা ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকার সম্ভব নয়।
গ্রামীণ ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের শতভাগ সময়ানুবর্তী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। একই সাথে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও শয্যার মান বজায় রাখতে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
করোনা মহামারির সময়ে চিকিৎসকদের অসামান্য অবদানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্ব যেখানে হিমশিম খেয়েছে, সেখানে আমাদের চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। চিকিৎসকদের এই অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য আনসার মোতায়েন এবং বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা বাজেটে অনুমোদন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ চালুর পর খুব দ্রুত জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া এবং রংপুর শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ উদ্বোধন করা হবে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে দ্রুত ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করা হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ২০টি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ২টি বিশেষভাবে নারীদের জন্য ডেডিকেটেড থাকবে। মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
দেশের সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চিকিৎসকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের যেকোনো লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবসময় পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।


