হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত কয়েক দিনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু- উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। গত ১১ দিনে এখানে ১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করেছে এবং শিশু ওয়ার্ডে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ চালু করেছে।
তবে রোগীর চাপ এতই বেশি যে নির্ধারিত শয্যায় সংকুলান হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগেও হামের সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনই আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মারা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও রাজশাহীতে সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন। পাবনা সদর হাসপাতালেও পৃথক ওয়ার্ড করে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি ও সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই সঠিক সময়ে হামের টিকা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, করোনা পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়ায় শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে, যার ফলে হামের এই আকস্মিক প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন কর্নার ও ডেডিকেটেড ফিভার ক্লিনিক চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগী থেকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।