Barishal Health Info

হামলার ক্ষত বুকে নিয়েও মানবতার ডাকে চিকিৎসাসেবায় ফিরলেন শেবাচিমের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

মন্তব্য প্রতিবেদন :

বরিশালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সোমবার (২৫ মে) দুপুরের পর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুনরায় চিকিৎসাসেবায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তানভীর রেজা।

গত ২৩ মে ২০২৬ রাত ১০টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১ এ বরিশাল বি.এম কলেজের কতিপয় সন্ত্রাসীর হামলায় এক সহকারী অধ্যাপক, তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং কয়েকজন মেডিকেল শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে উদ্বেগ তৈরি হয়। হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মুশীউল মুনীর বরাবর ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক ডা. মুনায়েম সাদ দাবিগুলো গ্রহণ করেন এবং অধিকাংশ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। হাসপাতালের প্রতিটি ইউনিটে সার্বক্ষণিক তিনজন সশস্ত্র আনসার মোতায়েন, ২৪ ঘণ্টা পুলিশ টহল জোরদার, দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিতকরণ এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।

এদিকে বর্তমানে বরিশালে হাম রোগের সংক্রমণ প্রায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কথা ভেবে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।

অনেকেই বলছেন, এই ঘটনাই আবারও প্রমাণ করেছে—চিকিৎসকরা শুধু পেশাজীবী নন, তারা মানবতার প্রহরী। আহত শরীর, আতঙ্ক আর তীব্র মন:কষ্ট নিয়েও যখন একজন চিকিৎসক রোগীর পাশে দাঁড়ান, তখন সাদা অ্যাপ্রোন কেবল পোশাক নয়, তা হয়ে ওঠে মানবসেবার এক অনন্য প্রতীক।
লিখেছেন: ডা: তানভির রেজা,
ইন্টার্ন চিকিথসক, শেবাচিমহা

Exit mobile version