Take a fresh look at your lifestyle.

সারাদেশে মশা নিয়ন্ত্রণে পুরোদমে ওষুধ ছিটানো শুরু হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৩৫

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রাজধানীসহ সারাদেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় মশক নিধন কার্যক্রমে গতি আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি জানানোর পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অপরিহার্য বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরদার সাখাওয়াত বলেন, ‘কিউলেক্স মশা ভয়াবহভাবে বেড়েছে এটা সত্য। মশার উপদ্রুপ বাড়ার পরে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র সাত দিন। শপথ নেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরই আমরা কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে পারি, সে ব্যাপারে তৎপর হয়েছি। আমরা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিচ্ছি। সে লক্ষ্যে আমাদের সক্ষমতার পুরোটা দিয়ে কাজ করছি। এর অংশ হিসেবেই আজ আমরা এখানে এসেছি, ওষুধের গুণগত মানটা দেখার জন্য। পুরোদমে ওষুধ ছিটানো শুরু হবে। মশা ও লার্ভা নিধন করার ওষুধ সেটার স্যাম্পল নিয়েছি পরীক্ষা করার জন্য।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্প্রে করলে মশার শরীর পর্যন্ত যেতে হয়, না হয় মশা মরে না। জলপথ এবং স্থলপথ উভয় দিক থেকে মশা নিধন এবং প্রতিরোধ করা হবে। খালগুলোতে স্প্রে করার জন্য স্প্রিটবোডের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। জলে-স্থলে মশা নিধনের জন্য ব্যাপক পরিসরে কাজ শুরু করবো, যাতে মশার পরিমাণ আর বাড়তে না পারে এবং নিধন হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক জায়গায় স্প্রে করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আশা করি, মশা প্রতিরোধ করতে পারবো। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা যত চেষ্টা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি সহযোগিতা প্রয়োজন। টবের পানি, টায়ার ফেলে রাখা, পানি জমে থাকা—এগুলো এডিস মশার জন্মস্থান। বাসা-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর বাসা-বাড়িতে স্প্রে করা কষ্টকর, তারা ভেতরে ঢুকতে দেন না। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ-কর্ম আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আশা করি, আমরা সফল হবো।’

ডেঙ্গু মশা নিধনে ওষুধ কাজ না করলে কি পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক চিন্তা করবো, নেতিবাচক চিন্তা ভালো না। আমরা ধরে নেবো, ওষুধ ভালো এবং কাজ করবে। এর পর কাজ না হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপির ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজগুলো হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন কোনো না কোন নির্দেশনা আমাদেরকে দিচ্ছেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করি। এর বাইরেও কিছু থাকলে আমরা আমলে নিয়ে কাজ শুরু করি। আমাদের ১৮০ দিনের যে কর্মসূচি রয়েছে, এই কর্মসূচি কাঙিক্ষত পর্যায়ে সফল করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী’—যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যে এক লাখ জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন কোন খাতের জনশক্তি নেওয়া হবে এটি এখনো ভাগ করা হয়নি। আজ-কালের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। অনেক কর্মী নেওয়া হবে, এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনাকর্মী, মিডওয়াইফার, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট আছে। এর মধ্যে যেখানে যত জনশক্তি দরকার, তা বিবেচনা করে নিয়োগ দেওয়া হবে।

পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.