Take a fresh look at your lifestyle.

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি

৪০

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘স্বনির্ভর স্বাস্থ্য বীমা’ ও ‘নগদ অর্থ ছাড়া চিকিৎসা’ পদ্ধতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাবর বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে এই স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্বারকলিপিতে জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ স্ব-উদ্যোগে আধুনিক একটি স্বাস্থ্যসেবা মডেলের প্রস্তাব তৈরি করেন। প্রস্তাবটির প্রাথমিক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তরে ‘কল্যাণ কর্মকর্তা’ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

এতে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব সভার সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির ভিত্তিতে কয়েকটি বিষয় দ্রুত জাতীয় গেজেট আকারে প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রধান গেজেটসমূহ হচ্ছে— স্বাস্থ্য বীমা ও ইউনিক আইডি গেজেট, ক্যাশলেস চিকিৎসা সংক্রান্ত গেজেট, সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গেজেট, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গেজেট।

এর আগে একই বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এই প্রস্তাবটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সচিব সভায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

সেখানে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলটি তুলে ধরেন। আলোচনার পর উপস্থিত সচিবরা এটিকে বর্তমান সময়ের জন্য কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য বলে মত দেন। পরবর্তীতে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য বীমা চালু এবং বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের সুপারিশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা সহজীকরণ এবং চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের আধুনিক পদ্ধতি চালু হলে কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া আব্দুল হামিদের প্রস্তাবিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা মডেলটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা চালুর ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং সচিব সভার সমর্থনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি দ্রুত জাতীয় গেজেটভুক্ত করে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সূত্র : মেডিভয়েস

Leave A Reply

Your email address will not be published.