নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব, যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখে করিডরের দুটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর। যাতে করে দিনভর বন্ধ রয়েছে রোগীদের সেবা দেয়া কার্যক্রম।
আজ বৃহস্পতিবার (১২) ডিসেম্বর সকালে থেকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একদল দুষ্কৃতিকারী কার্যক্রম চলা অবস্থায় শিক্ষার্থী দের জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্লাব থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে ৩ টি ক্লাবেই তারা তালাদিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধ্য করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, গত সরকারের আমলে সংগঠনগুলো গঠনতন্ত্র বহিভূত ভাবে রাজনৈতিক ব্যানারে চালিয়ে আসছিল। এর পর গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ফের এর দায়িত্ব নেয় মেডিকেল সাধারন শিক্ষার্থীরা। বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছিল সংগঠন তিনটি। প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ রোগী এখান থেকে বিনামূল্যে রক্ত নেয়ার পাশাপাশি সেবা পেতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন ” অরাজনৈতিক এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো আমাদের আবেগের জায়গা। মেডিকেল শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই মানবসেবার উদ্দেশ্যে সংগঠন গুলোর কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একটি অংশ যারা কখনোই সংগঠন এর কার্যক্রম এর সাথে জড়িত ছিল না তারা দাবি করে বসে সংগঠন সমূহে সংবিধান/গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র ৫১ তম ব্যাচ এর অংশ গ্রহনে প্রহসনমূলক কমিটি রিফর্ম হবে। তাদের হঠকারিতার কারনে সংগঠন এর সকল ব্যাচ এর সদস্যরা শুরু থেকেই এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং ক্যাম্পাসে আপত্তি জানিয়ে আসছে। সংগঠন এর সদস্যদের সাথে কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা না করে সংগঠন গুলোয় তালা দেওয়ার মত এহেন ঘৃন্য কাজে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সবাই। এদের মধ্যে সাব্বির(৫০ তম),আরাফাত(৫১ তম), মশিউর(৫১ তম),এনামুল(৫১ তম) সাফওয়ান(৫১ তম), কিরন(৫২ তম), আতিকুর(৫২ তম), ইসমাইল(৫২ তম) সহ সবাই একটি রাজনীতিক দলের সাথে জড়িত। যারা এই উত্তেজনা কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আবেগের এই জায়গা কোনো কুচক্রী মহলের হাতে তুলে দিতে চাইনা। দেব না। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আমরা চাইনা। তারা এসে তালা গুলো খুলে দিয়ে যেন যায় আমরা সে প্রস্তাব করব, যদি না মানে তাহলে সংগঠন এর সদস্য রা যা চাইবে তা হবে। সংগঠন চলবে গঠনতন্ত্র মেনে।
শিক্ষার্থী জানাইয়, দুই গ্রুপের এরকম উত্তেজনা কর পরিস্থিতি দেখে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর করিডরের দুটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে। যাতে করে এর কার্যক্রম আরো ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ বর্তমানে রক্তদান এবং ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে ৩ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী,মেডিসিন ক্লাব,যুব রেড ক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী এসব সংগঠন থেকে সেবা পেয়ে থাকে। মেডিকেল এবং ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের দের স্বেচ্ছাসেবায় এসব সংগঠন পরিচালিত হয়।