হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বছর শেষের দিকে যখন শরৎ ধীরে ধীরে শীতের পথে এগোয়, তখন অনেকেই অনুভব করেন যে তাদের জয়েন্টের ব্যথা আগের তুলনায় বাড়ছে। আর্থ্রাইটিস, কোমর ব্যথা, বা হাঁটুর জড়তা যাই হোক না কেন, শীতকাল বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে হাড়–জোড়ার সমস্যাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
ঠান্ডা পড়লে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এতে পেশি ও জয়েন্টে শক্তভাব, নমনীয়তার অভাব এবং ব্যথা দেখা দেয়। পাশাপাশি শীতকালে অনেকেই কম চলাফেরা করেন, যা পেশিকে দুর্বল করে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস, কোমর ব্যথা ও ফ্রোজেন শোল্ডারের মত সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
শীতকালে আপনাকে নমনীয়, সক্রিয় ও ব্যথামুক্ত রাখতে কিছু সহজ এবং কার্যকর self-care পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো
১. গরম থাকুন – জয়েন্টকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করুন
ঠান্ডা এড়ানো এবং গরম থাকা জয়েন্টের শক্তভাব কমাতে সাহায্য করে। মোটা জামা-কাপড় পরুন, লেয়ার করে পোশাক ব্যবহার করুন, এবং শীতের বাতাসে বেশি সময় না থাকার চেষ্টা করুন। বিশ্রামের সময় গরম কম্বল বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। ঘরকে আরামদায়ক উষ্ণতায় রাখুন। হাত–পা গরম রাখতে মোজা বা দস্তানা পরাও উপকারী।
২. চলাফেরা বজায় রাখুন – হালকা ব্যায়ন সবচেয়ে কার্যকর
জয়েন্টকে সচল রাখার জন্য নিয়মিত চলাফেরা খুবই প্রয়োজন। হালকা ব্যায়াম—যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাইক্লিং বা সাঁতার—রক্ত সঞ্চালন এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়ায়। বাইরে হাঁটতে বের হওয়ার আগে ঘরের ভেতরেই সামান্য ওয়ার্ম-আপ করে নিন। সকালের জড়তা দূর করতে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম খুবই ভালো কাজ করে। দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
৩. হাড় ও জয়েন্টের জন্য পুষ্টিকর খাবার খান
শীতকালে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত। এগুলো হাড়কে মজবুত করে এবং জয়েন্টকে সুস্থ রাখে। দুধ-দই, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ নিয়মিত খাবারে রাখুন। সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে অনেকের ভিটামিন ডি কমে যেতে পারে—সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। শীতে পিপাসা কম লাগলেও জয়েন্টের লুব্রিকেশন ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
৪. ব্যথা কমাতে গরম চিকিৎসা ব্যবহার করুন
শীতের দিনে পেশি টান ধরলে বা জয়েন্ট শক্ত লাগলে গরম চিকিৎসা খুব কার্যকর। গরম সেঁক, হিটিং প্যাড বা গরম পানির শাওয়ার ব্যথা কমিয়ে শরীরে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। আর্থ্রাইটিস বা কোমর ব্যথায় এগুলো বিশেষভাবে উপকারী। তবে খুব বেশি তাপ ব্যবহার করবেন না, যাতে ত্বকে জ্বালা বা পোড়া না লাগে।
৫. ঘরে সঠিক ভঙ্গিমায় থাকুন
ঠান্ডায় অনেকেই কুঁকড়ে বসার প্রবণতা দেখান, যা সময়ের সঙ্গে ঘাড়, কোমর ও নিতম্বে চাপ সৃষ্টি করে। তাই সোজা হয়ে বসুন, পিঠে সঠিক সাপোর্ট নিন এবং দীর্ঘসময় পা ক্রস করে বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন। বাসায় বসে দীর্ঘসময় কাজ করলে আরামদায়ক ও ইরগোনমিক চেয়ার ব্যবহার করুন।
৬. আগের আঘাতের জায়গাগুলোতে বিশেষ যত্ন নিন
আগে কোনো হাড় ভেঙে থাকলে, লিগামেন্ট ছিঁড়ে থাকলে বা সার্জারি হয়ে থাকলে শীতে সেই স্থানগুলোতে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই এসব জায়গায় গরম রাখা, হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি খুবই উপকারী।
৭. সকাল শুরু করুন নড়াচড়া দিয়ে
শীতের সকালে জয়েন্টে শক্তভাব সাধারণ ঘটনা। দিন শুরু করতে পারেন কিছু হালকা স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম এবং একটি গরম পানির গোসল দিয়ে। এগুলো পেশি শিথিল করে এবং চলাচল আরও সহজ করে।
শীতকাল মানেই ব্যথা বা চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এমন নয়। নিয়মিত যত্ন, উষ্ণতা, হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনাকে শীতেও স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে সাহায্য করবে। ছোট ছোট জীবনধারাগত পরিবর্তন শীতজনিত অস্থিসন্ধির সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।