Take a fresh look at your lifestyle.

রংপুর মেডিকেলে ওটিতে চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলা

১০৮

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে সার্জারি চলার সময় অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ঢুকে চিকিৎসকদেরকে মারধর করেছেন রোগীর স্বজনরা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে।

সার্জন ও সহকারী সার্জন, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মারধরের শিকার হন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, ওটিতে একজন রোগীর সার্জারি চলছি। এ সময় অন্য রোগীর স্বজনরা চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচার অসম্পূর্ণ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই রোগীকে ওটিতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপেক্ষমাণ রোগীর স্বজনরা আমচমকা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়।

ইন্টার্ন ডক্টর’স সোসাইটির প্রতিবাদ

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে রমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টর’স সোসাইটি। তারা বলেছে, যেখানে একজন রোগীর জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে, যেখানে চিকিৎসকের হাত কাঁপলে একটি জীবন হারিয়ে যেতে পারে—সেই পবিত্র অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর পেশেন্ট পার্টির হামলা চরম বর্বরতা, অমানবিকতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, ‘এই হামলা শুধু কয়েকজন চিকিৎসকের ওপর নয়—এটা পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর, চিকিৎসা পেশার মর্যাদার ওপর এবং সর্বোপরি মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত। যারা জীবন বাঁচাতে শপথ নেয়, তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে এই সমাজ নিজেই নিজের কবর খুঁড়ছে।’

তারা বলেন, ‘আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও জরুরি বিভাগে শূন্য সহনশীলতা নীতি এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই। চিকিৎসকরা নিরাপদ না হলে, কেউই নিরাপদ নয়।’

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা রমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টর’স সোসাইটি। হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া এ সংক্রান্ত আবেদনে তারা বলেন, ‘আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অত্র ২০/১/২০২৬ তারিখে হাসপাতালে সার্জারিরত অবস্থায় মিডলেভেল চিকিৎসক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর লোক কর্তৃক অন্যায়ভাবে গায়ে হাততোলা ও সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। এমতাবস্থায় আমাদের নিরাপত্তার অনিশ্চয়তার কারণে আমাদের পক্ষে সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।’

এতে রোগীর স্বজনদের উপযুক্ত শাস্তি ও হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেন তারা।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের হামলা চালায় রোগীর স্বজনরা।

এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান সিওমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

পরে এ হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে যান তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.