হেলথ ইনফো ডেস্ক :
আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের অকুতোভয় সংগ্রামী শহীদ ওসমান হাদির অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে তার নামে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই জুলাই বিপ্লবীর নামে এসব ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়।
তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত রাখার পাশাপাশি ওসমান হাদিসহ জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শহীদ তাজউদ্দিনে ছাত্রাবাসের নাম শহীদ ওসমান হাদি হল
শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ ওসমান হাদি হল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের নতুন নামকরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে গায়েবানা জানাজা ও প্রতিবাদ মিছিল হয়। জানাজা শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজমুস সাকিব কলেজ ছাত্রাবাসের নাম শহীদ ওসমান হাদির নামে করার প্রস্তাব দেন। উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার প্রস্তাবের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রাবাসের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ রাখার দাবি জানান। একই দিন অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। পরে সর্বসম্মতভাবে ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শহীদ হাদির নামে সলিমুল্লাহ মেডিকেলে ইন্টার্ন হোস্টেলের নাম
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখসারীর যোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যা করায় সারাদেশের মতো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মনে এই ঘটনা তীব্রভাবে দাগ কেটে যায়।
তার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির এই ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ৪৭তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বর্তমান ইন্টার্ন হোস্টেলের নাম শহীদ ওসমান হাদি রাখার ব্যাপারে একমত হন এবং নিজস্ব অর্থায়নে নামফলক তৈরি করে আজ রোববার (২১) হোস্টেলের প্রধান ফটকে লাগান। পাশাপাশি এই নাম অফিসিয়াল স্বীকৃতির জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাতে ব্যবস্থা নেয়, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
গোপালগঞ্জ মেডিকেলে ওসমান হাদির নামে ছাত্রাবাস
সারাদেশের ক্যাম্পাসের ন্যায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজেও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সিদ্ধান্ত হয় পরদিন শুক্রবার বাদজুমআ ফের বিক্ষোভ মিছিল এবং দুয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের নামকরণ ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি’ করা হবে।
সেই সাথে কলেজের একাডেমিক বিল্ডিংয়ে ‘জুলাই ও আধিপত্যবাদবিরোধী কর্ণার’ স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার বাদ জুমআ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জিজিএমসি সেন্ট্রাল জামে মসজিদে শহীদের জন্য দুয়া হয়। সেই সাথে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হল’।
এ উদ্যোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম হাসান সিয়াম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা জুলাই নামানো প্রজন্ম। সেই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী আমাদের সহযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে পতিত ফ্যাসিস্টরা গুলি করে হত্যা করেছে। হাজারো মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই বিপ্লবীদেরকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অনিতিবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
‘সেই সাথে ওসমান হাদির দেখিয়ে যাওয়া জুলাইয়ের মূল স্পিরিট সবার প্রাণ ছড়িয়ে দিতে এবং তার বিপ্লবী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা সকল শিক্ষার্থীরা আমাদের বয়েজ হোস্টেলের নাম ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হল’ করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা সকল শিক্ষার্থীদের মতামত’—যোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা খুব শীঘ্রই কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকটে তাদের ছাত্রাবাসের নামকরণ ও একাডেমিক ভবনে একটি ‘জুলাই ও আধিপত্যবাদবিরোধী কর্ণার’ স্থাপনের চূড়ান্ত অফিসিয়াল অনুমোদন নিবে।
প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজে এখন চারটি হল রয়েছে। দুইটি ছাত্রাবাস এবং দুইটি ছাত্রীনিবাস। কিন্তু কোনোটিরই অফিসিয়াল নাম নেই।