হেলথ ইনফো ডেস্ক :
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অভিজিৎ সাধু (১৮) নামে এক যুবকের বিচ্ছিন্ন কবজি পুনঃস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সাড়ে ছয় ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বে দেন অর্থোপেডিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবীর কুমার দাস ও ডা. বি. কে. মন্ডলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল দল।
গত ২৩ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারের একটি সরিষার তেল কারখানায় কাজ করার সময় অভিজিতের হাতের ব্রেসলেট মেশিনে আটকে যায়। এতে ডান হাতটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং কবজি পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত দীর্ঘ হাড় (হিউমেরাস) এবং বাহুর নিচের অংশের একটি হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবা-মা বিচ্ছিন্ন হাতটিসহ দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে দেওয়া চিকিৎসক বি.কে. মণ্ডল জানান, অপারেশনটি প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে চলে। অপারেশনে মূলত কে-ওয়্যার ও বাহ্যিক ফিক্সেটরের মাধ্যমে কবজি জয়েন্টকে প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল করা করা হয়। পরে রেডিয়াল ও আলনার ধমনি এবং ডরসাল ভেনাস আর্চের রক্তনালিগুলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে মিডিয়ান ও আলনার স্নায়ু পুনর্গঠন/মেরামত করা এবং সমস্ত ফ্লেক্সর টেন্ডন মেরামত করা হয়েছে।
ডা. মণ্ডল জানান, রোগীর এক্সটেনসর টেন্ডন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেরামত এখনো বাকি আছে এবং এটি অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। অপারেশনে ৮-০ প্রোলিন সুতা ব্যবহার করে স্নায়ুর মেরামত করা হয়েছে এবং লুপ ও বুলডগ ক্ল্যাম্পের সাহায্যে ৮-০ প্রোলিন সুতা দিয়ে রক্তনালি সংযুক্ত করা হয়েছে।
অস্ত্রোপচার সফলভাবে শেষ হওয়ায় রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা ভালো।
পরবর্তী চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণ কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক এলাকায় অর্থোপেডিক সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’
রোগীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘রোগীর হাতের দূরবর্তী আঙুলগুলোতে রক্ত চলাচল কিছুটা কম। তবে তালু এবং হাতের উপরের অংশে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক। তার হাত ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সকলে তার জন্য দোয়া করবেন।’