Barishal Health Info

বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সীমাবদ্ধতা কারিনার মৃত্যুর পর আলোচনায়

হেলথ ইনফো ডেস্ক :

অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের লিভারজনিত জটিলতায় মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত এই মুখের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—বাংলাদেশে কি পর্যাপ্ত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সুবিধা নেই? কেন গুরুতর লিভার রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই শেষ পর্যন্ত ভারত, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো দেশে যেতে হয়?

দেশে এখন হেপাটাইটিস, সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যানসারের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় এটি এখনও সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আবদ্ধ।

জানা গেছে, বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চালু হয় দুই দশক আগে। বারডেম হাসপাতালে প্রফেসর মো. আলী এ চিকিৎসা শুরু করেন। বিগত সরকারের আমলের শেষের দিকে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট শুরু হয়।

কিন্তু এ ধরনের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ সেবা। এসব সুবিধা সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে নেই।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো উপযুক্ত দাতা পাওয়া। বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদানের সংস্কৃতি এখনো ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠেনি। জীবিত দাতার ক্ষেত্রেও নিকটাত্মীয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য, শারীরিক সক্ষমতা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সহজ নয়। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ পান না।

এদিকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের খরচ অনেক ব্যায়বহুল হওয়ায় সবার দ্বারা এটা করা সম্ভব হয় না। যারা দরিদ্র তারা এই বিপুল খরচ বহন করতে পারেন না বিধায় চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হন। দেশে এর খরচ হয়ে থাকে ১০-১২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, যারা সামর্থ্যবান আছেন তারা দেশে চিকিৎসা না নিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। যদিও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বাংলাদেশে অপ্রতুল তবুও যেটুকু সুযোগ আছে তা নানা সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টকে আরও সহজলভ্য করতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অঙ্গদানে জনসচেতনতা এবং আইনি কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

Exit mobile version