নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও অস্বাভাবিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক কৃষক পরিবারের দাবি, কয়েকদিনের জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কষ্টার্জিত প্রায় ৮ হাজার টাকার বেশি গুনতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার জ্বরের চিকিৎসার জন্য তিনি ও তাঁর বাবা বরিশাল শহরে আসেন। বিভিন্ন স্থানে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না পেয়ে স্থানীয়দের পরামর্শে তারা ‘South Ibn Sina Diagnostic Center, Barisal’-এ যান। সেখানে ৮০০ টাকা ভিজিট ফি দিয়ে ডা. মোহাম্মাদ হাসানুজ্জামনের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক ডা. মোহাম্মাদ হাসানুজ্জামন প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একাধিক ব্যয়বহুল টেস্টের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোর জন্য ৮ হাজার টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এত বেশি টাকার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, লিভার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থাভাবে পরিবারটি আপত্তি জানালেও, রোগের জটিলতার ভয় দেখানোয় তারা বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে টাকা পরিশোধ করেন। তবে বিস্ময়করভাবে মাত্র ২০–৩০ মিনিটের মধ্যেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়, যা নিয়ে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি টাইফয়েড জ্বরসহ অন্যান্য সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রেসক্রিপশন দেন। কিন্তু অন্য একটি ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেসক্রিপশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, দেওয়া ওষুধগুলো কার্যকর নয়।
ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রশ্ন—সামান্য জ্বরের ক্ষেত্রে এত বিপুল অঙ্কের পরীক্ষা কতটা যুক্তিসঙ্গত? অল্প সময়ের মধ্যে জটিল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব?
স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা দেওয়া ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতারণা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন “আমরা কৃষক মানুষ। ঘাম ঝরানো কষ্টের টাকা এভাবে হারাতে হলো। যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার না হন।