Take a fresh look at your lifestyle.

বরিশালে কয়েকগুন বেড়েছে কুকুর, বেড়াল দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা

সরবরাহ না থাকায় ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের

92
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে গত বছরের চেয়ে কয়েকগুন বেড়েছে কুকুর, বেড়াল দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বাসা বাড়িতে পোষা কুকুর ও বেড়ালের মাধ্যমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এতে করে হাসপাতাল গুলোতে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন সংকট। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাইরের ফামের্সী থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আর সংশ্লিষ্টরা বলছে, কুকুর রেড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

বরিশাল জেনালে হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রন কেন্দ্রের সামনে ভীড় করেছেন বরিশাল নগরী, জেলা ও উপজেলা থেকে কুকুর-রেড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগীরা। এর মধ্যে বেশিরভাগ রোগী শিশু। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী বিড়ালের আচর ও কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন দিতে এসছেন। বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৪৪৪ জন আর বিড়ালের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৫১ জন। অনান্য ভাবে আক্রন্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৪১ জন। হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিমাসে ভ্যাকসিন নিতে আসেন ১২০০-১৩০০ জন মানুষ। এদিকে সরবরাহ না থাকায় ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত ও তাদের স্বজনদের দাবি, সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া কথা থাকলেও হাসপাতালে আসলে ভ্যাকসিন নেই বলে জানানো হয়। তাই বাইরে থেকে কিনে এনে দিতে হয়।

মরিয়ম আক্তার জানায়, আমার বাচ্চাকে বেড়ালে আচর দিছে তাই হাসপাতালে আসছি। আসার পর তারা বলে ভ্যাকসিন নাই। তিনটি ভ্যাকসিনের মধ্যে আমি দুটাই কিনে দিছি। বেশিরভাগ সময় আমাদের ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। ৪জন মিলে ৫৪০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনেছি।

মো. হামিম জানায়, বাচ্চা বেড়াল ধরতে গিয়ে আমাকে কামড়দিছে। হাসপাতালে আসলে প্রথম ভ্যাকসিন পেলেও দ্বিতীয়টা আমাকে কিনে দিতে হয়েছে।

মিস লামিয়া বলেন, কুকুর বেড়ালের ভ্যাকসিনটা যদি সরকারি ভাবে দেয়া হয় তবে ভালো হয়। সবার পক্ষে তোর আর কিনে দেওয়া সম্ভব না। একটা বেড়ালের ভ্যাকসিন করাতে ১৫০০-২০০০ টাকা লাগে। সরকারি ভাবে কুকুর বেড়ালকে ভ্যাকসিন করানো উচিত। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।

চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে নভেম¦র মাস পর্যন্ত বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৪ জন ভ্যাকসিন নিয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় কয়েকগুন বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। রোগী বাড়ার কারনে দেখা দিচ্ছে ভ্যাকসিন সংকট। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছে , আগের চেয়ে কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা উপজেলা থেকেও রোগীরা বরিশালে এসে ভীড় করছেন। চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিনের সরবরহ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সিনিয়র স্টাফ নার্স  শিবানী রানী ভদ্র বলেন, গত মাসে আমরা ২০৩৬ জনকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। তার মধ্যে কুকরি ৪৪৪ জন, বাকীগুলোর মধ্যে গড়ে ১৫০০ হচ্ছে বেড়াল। বেড়াল এখন ঘরে ঘরে পোষায় আক্রান্তের সখ্যা যেমন বেশি তাতে ভ্যাকসিনে ঘাটতি হয়। আমাদের ভ্যাকসিনের চহিদা থাকে অনেক কিন্তু সে অনুযায়ী ঢাকা থেকে সাপ্লাই হয়না তখন আক্রান্তদের কিনে আনতে হয়। উপজেলা থেকে অনেকে আই এম ভ্যাকসিন দিয়ে চলে আসে পরে আবার আমাদেরই দিতে হয়।

বরিশালে জেনালে হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছে, বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভ্যাকসিনের সংকট সেভাবে নেই। তবে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর কারন হিসেবে তারা বলছেন, বাসা বাড়িতে কুকুর বেড়াল পোষার প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে যদি কুকুর বেড়ালকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায় তবে মানুষ আক্রান্তের হার কমে আসবে।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ইদানিং আমাদের একটি কালচার বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পোষা প্রাষী পালন করছি। দিন দিন পোষা বা প্রাণীর কামড়ে বা আচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এক্ষেত্রে দুটি সাধারণত ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি। এর একটি হচ্ছে র‌্যাবিস ইমোনোগ্লোবিন (র‌্যাবিস আইজি) আর একটি র‌্যাবিস যেটি চিকিৎসক সিধান্ত নেন। তবে সব রোগীকে ইমোনোগ্লোবিন দিতে হয়না। যদি প্রয়োজন মনে করে তবে সেই রোগীকে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ইমোনোগ্লোবিন েেদয়া হয়। ভ্যাকসিনের ওইভাবে সংকট নেই। এগুলো আমাদের ঢাকা থেকে আনতে হয়। এর জন্য আমদের একটি ম্যানপাওয়ার একটি গাড়ি পাঠিয়ে আমাদের এটি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এর জন্য দুএক সময় ঘাটতি হতে পারে। এটি যদি আমরা স্থায়ীয় লেভেলে পেতাম তবে আমাদের জন্য উপকার হত।)

সংকটের কথা শিকার করেছেন বরিশালের সিভিল সার্জন। বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন কখনোই সরবারহ হয় না। অধিদপ্তরে যা চাহিদা পাঠানো হয় তার অর্ধেকেরও কম পাচ্ছেন। ভ্যাকসিন আনতে হয় বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়ে। যে কারণে বাড়তে থাকা আক্রান্তের চাপ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে দিন দিন। অকে ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গেলে রোগীদের বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে।

বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মরিয়া হাসান বলেন, পরিসংথ্যান যেটা বলছে কুকুর রেড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের র‌্যাবিস ভ্যাসকসিন যেটা এঠা প্রায়ই আমাদের সংকট দেখা দেয়। প্রথম কারন যেটা হলো আমাদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, আমরা সরবরাহ পেয়ে থাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। আমরা যখন চাহিদা পাঠাই দেখা যায় ৫ হাজার ভায়রেলের জন্য চাহিদা পাঠাই আমাদেরকে ৩ হাজার দেয়া হচ্ছে। এরকম করে সাসময়ই সরবরাহ কিছুটা কম হয়। যার কারনে সময়ের আগে অনেক তাড়াতারি আমাদের ভ্যাকসিন গুলো শেষ হয়ে যায়। অনে রোগীকে সরকারী যে ভ্যাকসিন বাছে তা দিতে পারিনা। পাশাপাশি আমাদের লোকান যে অর্থরিটি আমরা যে টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করবো এরকম কোন অনুমতি আমাদের দেয়া হয়নি। যার কারনে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। যখন সরবরাহ মোটেই থাকেনা তখন বাধ্যহয়ে জনগনকে ব্যাক্তিগত ভাবে বাইরে থেকে কিনে তারপরে দিতে হয়। এর কার্যকারীতা ৫ বছর পর্যন্ত থাকে। ছোট শিশুদের সচেতন করা খুবই কঠিন।)

সাধারণ মানুষের দাবি সরকারিভাবে চাহিদা অনুযায়ী যাতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। অন্যথানায় এর সুযোগ নিয়ে একটি চক্র অধিক লাভবান হতে সাধারণ মানুষকে জিন্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেবে। এর পাশাপাশি সরকারি ভাবে যেন প্রাণীদের ভ্যাসকসিন প্রদান করা হয় তারও দাবি জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.