হেলথ ইনফো ডেস্ক :
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ রক্ষা ও রোগীদের বিদেশমুখী হতে বাধ্য করতে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। সুরক্ষা আইন না থাকায় চিকিৎসকরা কর্মক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন জানিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দ্রুত যুগোপযোগী চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডা. নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ড্যাব নেতারা এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংগঠনটির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক নেতা-কর্মীরা।
চিকিৎসক নেতারা বলেন, দেশে চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা দুটোই অবহেলিত। শুধু চিকিৎসকরাই নন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত নার্স, টেকনোলজিস্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এটি স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে।
তারা বলেন, দীর্ঘ অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এসে যখন তিনি অবহেলা, অসম্মান ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন, তখন তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই গ্রেডে কর্মরত অন্যান্য প্রশাসনিক বা প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা যে সম্মান, নিরাপত্তা ও প্রটোকল পান, চিকিৎসকরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসক নেতাদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও ভিকটিমাইজেশনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তারা দাবি করেন, মাঝখানে প্রতিবেশী দেশে চিকিৎসার জন্য ভিসা বন্ধ থাকায় এসব ঘটনার মাত্রা কিছুটা কমে এসেছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে আবারও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, যাতে রোগীরা বিদেশমুখী হতে বাধ্য হন। এর পেছনে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের আজ হাসপাতালে রোগীদের পাশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তাদের রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করতে হচ্ছে। সামান্য কোনো ঘটনার জন্য চিকিৎসকদের ভিকটিমাইজ করার প্রবণতা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তাদের মতে, দেশে এখনো কার্যকর চিকিৎসক সুরক্ষা আইন না থাকায় চিকিৎসকরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত যুগোপযোগী চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি।
এসময় সাধারণ মানুষের প্রতি চিকিৎসকদের সীমাবদ্ধতাগুলো বোঝার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অপ্রতুল জনবল ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১০০, ২০০ বা ৪০০ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসক সহকারীর সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। ঢাকার মাতৃত্বকালীন হাসপাতালগুলোসহ দেশের ৬৪টি মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (এমসিডব্লিউসি) আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশনসহ জরুরি সেবা চালু রয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, চিকিৎসকরা জনগণের শত্রু নন, বরং জনগণের সেবক। তাই স্বাস্থ্যখাতের বাস্তব চিত্র ও চিকিৎসকদের সীমাবদ্ধতাগুলো সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন বলেন, ‘আজ আমরা হামের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখছি, এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়ী। একইভাবে চিকিৎসকদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর দায়ও তাদের নিতে হবে। কারণ ডা. জাহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংশ্লিষ্টরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তা কার্যকর করেনি, যদিও তারা চাইলে এটি করতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি অকার্যকর ছিল। এমনকি সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনও তারা গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করেনি।
অধ্যাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি একটি অনুরোধ জানাতে চাই। আপনি যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস সিস্টেম নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে—কোনো হাসপাতালে রোগীর স্বজন বা কেউ সহিংসতা করলে তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে না। আমরা চাই, বাংলাদেশেও সেই নীতিমালা অনুসরণ করা হোক।’
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, শিল্প পুলিশের মতো হাসপাতাল বা মেডিকেল পুলিশ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন, যাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ আপনারা যাচাই-বাছাই না করে, গায়ের জোরে কিছু লোক জড়ো করে মব তৈরি করবেন না। কোনো ডাক্তারকে টার্গেট করবেন না। পুলিশ বা হাসপাতালের ভেতরে কোনো অনিয়ম হলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত, সেখানে সরাসরি আক্রমণ বা জোরপূর্বক বিচার করা ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দেখি, হাসপাতালে বা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সরাসরি গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না—সেটি যাচাই না করেই বিচার করা হয়, যা অন্যায়।’
তিনি একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি সোনারগাঁয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল প্রায় ৭৫০ জন। সেখানে গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম—শিশু চিকিৎসক কয়জন আছেন। তারা জানায়, চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করেন। চিকিৎসক প্রতি রোগীর সংখ্যা শতাধিক। একজন চিকিৎসকের পক্ষে এত রোগী দেখা কি সম্ভব? তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করি। আমাদের এই আত্মউপলব্ধি ও প্রচেষ্টাগুলো সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।’
ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি একটি দাবি জানাচ্ছি-ভবিষ্যতে যদি কোনো হাসপাতালে বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকসহ চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্তদের ওপর কোনো হামলা হয়, তাহলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ১০ বছরের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এসব মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে বা মারাত্মক ক্ষতি হয়, তাহলে হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখতে হবে।
ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘আজ শুধু আমাদের এখানে নয়, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—ডা. নাসির উদ্দিনসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে।’
তিনি বলেন, চিকিৎসক নাসিরকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তার জীবন রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে চলবে?
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, টেকনোলজিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবার সকল কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন জরুরি। এমন একটি আইন করতে হবে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থানে একজন রোগী চিকিৎসা নিতে পারবে এবং চিকিৎসকরা নিরাপদ পরিবেশে সেবা দিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসকরা সবসময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত। অতীতে দেশীয় চিকিৎসার ওপর জনগণের আস্থা ছিল, এমনকি করোনাকালীন সময়েও চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো রোগীর সেবা দিয়েছেন।
ডা. শাকিল বলেন, ‘আমরা চাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রেফারেল সিস্টেম শক্তিশালী করা হোক এবং শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হোক।’
চিকিৎসকদের ওপর হামলা বা আক্রমণ চলতে থাকলে চিকিৎসক সমাজ নীরব থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী গণআন্দোলনের মতোই চিকিৎসকরাও জনগণের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, প্রাণে বাঁচতে ডা. নাসির এক জায়গায় আত্মগোপন করেন। সেখানকার দরজা ভেঙে কি বর্বরোচিত কায়দায় তাঁকে মারা হলো! তার মাথা ফেটে গেছে, হাতে মারাত্মক জখম হয়েছে। তিনি এখনো সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে ছোট-বড় মিলেয়ে ২৮ চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকছে? অবস্থা দেখে মনে হয়, চিকিৎসক নিগ্রহ যেন সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। কিছু হলেই ডাক্তারকে মারো। হামের টিকা নেই, শিশু মারা যাচ্ছে, তার জন্য ডাক্তার দায়ী। সুতরাং ডাক্তাররে মার।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘চিকিৎসক সুরক্ষা আইন যেমন চাচ্ছি, তেমনি রোগী সুরক্ষা আইনও চাচ্ছি। কারণ এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কী হবে? কোনো হাসপাতালে একজন গুরুতর রোগী গেলে ডাক্তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই হয় তো বলে দেবে, ভাই এখানে হবে না, আপনি অমুক হাসপাতালে যান।’
বিদ্যমান জনবল কাঠামোতে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের চাপের কথা তুলে ধরে ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে শয্যার সংখ্যা ১৭০০। এতে রোগী থাকে ৩-৪ হাজার পর্যন্ত। কখনো এটা পাঁচ হাজারেও দাঁড়ায়। একেকটি শয্যায় দুইজন রোগী থাকে, কোনো সময় তিনজনও। সেখানে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ১৭০০ এর শয্যার। অথচ রোগী থাকে ৪-৫ হাজার। কীভাবে সামলানো সম্ভব? এটা শুধু ঢাকা মেডিকেলে না, বরং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র। এর মধ্যেও যে চিকিৎসকরা কাজ করে, এটা তো মিরাকল। সেই ডাক্তারের ওপর হামলা কীভাবে সম্ভব?
ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন পরেই আপনারা দেখতে পাচ্ছেন একের পর এক ঘটনাগুলো ঘটছে। কেন ঘটছে—এর মানে হলো, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি প্রক্রিয়া চলছে এবং পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। মব সৃষ্টি করে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পেছনে কারা আছে, তা আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমি প্রশাসনের সঙ্গে, শরীয়তপুরের এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটি সন্তোষজনক। কিন্তু এই মবের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা কারা—কে বা কারা সেখানে ছিল, শরীয়তপুরের কোন পক্ষ বেশি সম্পৃক্ত—সেটিও আপনাদের জানা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মব সৃষ্টিকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই ডা. নাসিরের মতো যারা হয়রানির শিকার হন, তারা রক্ষা পাবেন।’
চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন শুধু ডাক্তারদের জন্য নয়, এটি চিকিৎসক, রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—এই তিনটি পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু শুধু আইন করলেই হবে না, মানুষের সচেতনতা ও বিবেকবোধও জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে হবে, করোনাকালে কারা মানুষের পাশে ছিল? তখন অনেকেই হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন, আর চিকিৎসকরাই জীবন ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন। তখন চিকিৎসকদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। এর পেছনে উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখা দরকার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দুর্বল হিসেবে দেখিয়ে জনগণকে বিদেশমুখী করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কলমের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে। আপনারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে ছিলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে চিকিৎসক, রোগী ও প্রতিষ্ঠান সবাই সুরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে জনগণের জন্য একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
ড্যাবের মানববন্ধনে অভিযোগ : রোগীদের বিদেশমুখী করতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে
