ডা. শাহজাদা সেলিম :
বিশ্বে আনুমানিক ৮-১২ কোটি মুসলমান ডায়াবেটিস নিয়ে প্রতি বছর রমজানে রোজা রাখেন। বাংলাদেশে মোট প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সংখ্যা ১ কোটি ৩৯ লাখ।
ধারণা করা হচ্ছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মুসলমানদের সংখ্যা ১ কোটি ২৬ লাখ। সে হিসেবে ১ কোটির বেশি ডায়াবেটিস আক্রান্ত বাংলাদেশি মুসলমান এবার রোজা রাখবেন।
রোজার সময় একজন মানুষকে ভোররাত (ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত) থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুমভেদে এ সময়কাল ১৪ ঘণ্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সাহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা হতে পারে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিস রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে।
অবশেষে পৃথিবীর মুসলিশ ও অমুসলিম ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা সর্বসম্মতভাবে মতামত দিয়েছেন যে ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা হতে পারে।
তবে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ অনেক ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সীমিত রেখে রোজা রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যে সব ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন, তাদের উচিত রোজা শুরুর কমপক্ষে ১ মাস আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া (৩ মাস আগে হলে ভালো)।
এর মধ্যে আছে ঘুম থেকে উঠেই ও খাবার ২ ঘণ্টা পর (অন্ততপক্ষে মোট ৪ বার/দিন) রক্তের গ্লুকোজ, রক্তের লিপিড, লিভার, কিডনি ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতার পরীক্ষা এবং HbA1C ইত্যাদি পরীক্ষা করে নেওয়া।
সবাইকেই তার নিজের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হওয়া উচিত।
চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করবেন। তবে, রমজানের ৩ মাস আগে থেকেই ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখার প্রস্তুতি শুরু করাটা সবচেয়ে বিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ।
যদিও আজ রোজা শুরু হয়েছে।
তারপরও জেনে রাখা ভালো রোজার আগে কী করবেন?
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
রমজান শুরুর কমপক্ষে ৪-৮ সপ্তাহ আগে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করা উচিত। আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ ও ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয় করা জরুরি।
ঝুঁকি মূল্যায়ন করুন
যদি আপনার বারবার রক্তে শর্করা কমে যায়, ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে, আপনি গর্ভবতী হন বা গুরুতর অসুস্থতা থাকে-তাহলে রোজা না রাখাই নিরাপদ।
• খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক শ্রম কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিন।
• ওষুধ ও ইনসুলিন সম্পর্কে প্রস্তুতি
• ওষুধ বা ইনসুলিন নিজে নিজে পরিবর্তন করবেন না
• কোন ওষুধ সাহরিতে ও কোনটি ইফতারে খাবেন-তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি
• কিছু ওষুধে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে-সতর্ক থাকতে হবে
সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অনেক ডায়াবেটিস রোগী রমজানে নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। তবে ঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ডা. শাহজাদা সেলিম
সহযোগী অধ্যাপক
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র : বাংলানিউজ২৪.কম