হেলথ ইনফো ডেস্ক :
অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ডিপথেরিয়া (Diphtheria) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একসময় প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া এই অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগটি আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৯৪ শতাংশই আদিবাসী (Aboriginal) এবং টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এদের অধিকাংশই নর্দার্ন টেরিটরি ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম অঞ্চলে বসবাস করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত শিশুকালীন টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ গ্রহণে অনীহাই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
ডিপথেরিয়া একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, যা মূলত গলা ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে সুখবর হলো—টিকার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এই প্রাদুর্ভাবকে “Communicable Disease Incident of National Significance” হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭.২ মিলিয়ন ডলারের জরুরি স্বাস্থ্য ও টিকাদান সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই অর্থ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হবে। স্থানীয় আদিবাসী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং টিকাদানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভ্যাকসিনবিরোধী ভুল তথ্যও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাই সবাইকে নিজেদের টিকাদান অবস্থা যাচাই করার এবং প্রয়োজন হলে বুস্টার ডোজ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান বিশ্বব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা ও জনসচেতনতার ঘাটতির একটি সতর্কবার্তা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
