Take a fresh look at your lifestyle.

অধ্যাপক সৈয়দ শরিফুল চিকিৎসা ও জনকল্যাণে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন

51

বরিশাল হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ মার্চ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
এতে বক্তারা বলেন, বিরল মানবিক গুণের অধিকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলামের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় এবং জনকল্যাণে বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলাম চিন্তা, জানা, বোঝার ক্ষেত্রে ছিলেন সাধারণের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সবার জন্য তার দুয়ার খোলা ছিল। শিক্ষক হিসেবে তিনি বায়োস্ট্যাটিসটিক্স-এর অনেক জটিল বিষয় অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে অত্যন্ত সহজ করে উপস্থাপন করতে পারতেন। দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে সেটাই হবে অধ্যাপক সৈয়দ শরিফুল ইসলামের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।

বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলাম যা বিশ্বাস করতেন, কর্মেও তার প্রতিফলন করে গেছেন। আমি নিজেও তার কাছ থেকে শিখেছি। বিএসএমএমইউর প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তার সহযোগিতায় আমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সম্পন্ন করতে পেরেছি। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জনকল্যাণে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন এর পুণ্য হিসেবে মহান আল্লাহতায়ালা তাকে নিশ্চয়ই জান্নাতবাসী করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

অন্য বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ছিলেন সাদা মনের মানুষ। তিনি ছিলেন অমায়িক, নিরহংকার, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। ছিলেন শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষক, ব্যতিক্রমধর্মী ও দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ। তিনি চ্যারিটি ধরনের কাজ করতে পছন্দ করতেন। তিনি বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপণ করে গেছেন। ফলের গাছ তিনি ভীষণ পছন্দ করতেন। তিনি নিজের লাভের জন্য কিছুই করে যাননি। তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ মানুষ। দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ করে গবেষণা ও থিসিসের উন্নয়নে তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। তিনি মানুষের সমালোচনার কথা চিন্তাও করতেন না। প্রভাব ও প্রতাপ এ ধরনের কোনো ভাবভঙ্গি তার জীবনে ছিল না। মৃত্যুর সময়ও তিনি শুধু শান্তিতে চলে যেতে চেয়েছেন, এছাড়া অন্য কিছুই তার চাওয়ার ছিল না।

প্রসঙ্গত, বিএসএমএমইউর প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। তিনি বিএসএমএমইউ ছাড়াও ইংল্যান্ডের একটি ইউনিভার্সিটিতে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। তাকে ময়মনসিংহ শহরে পারিবারিক নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.