Take a fresh look at your lifestyle.

শেবাচিমে ৩টি পৃথক আইসোলেশন ইউনিটে চলছে হাম রোগীদের চিকিৎসা

৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনটি আলাদা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরো আইসোলেশন কক্ষ বাড়ানোর প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। হাম রোগীদের সেবায় মানোন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ এ কে এম মশিউল মুনীর।

হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে শিশু বিভাগের সকল চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হাম আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি।

গত ১৩ মার্চ থেকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম তলার আইসোলেশন ওয়ার্ডে পৃথক ২টি কক্ষ ও ২য় তলার শিশু ইউনিট-১ এর ১টি কক্ষে হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে। হামের পৃথক আইসোলেশন কক্ষ গুলোতে যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাচ্ছে। হামের চিকিৎসার জন্য শিশু বিভাগের ৩টি ইউনিটেই চিকিৎসক ও নার্স এবং অন্যান্য স্টাফরা কর্মরত আছেন। এমনকি জরুরি বিভাগে ভর্তির সময় হাম আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই সতর্কতার সাথে সরাসরি রোগীদের পৃথক হাম কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিচালক বলেন, ‘পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের আরো পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে এ পর্যন্ত তিনটি আইসোলেশন কক্ষে হামে আক্রান্ত মোট ৯৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩ জন।

মতবিনিময় সভায় শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের যথাযর্থ চিকিৎসা হচ্ছে। পৃথক তিনটি আইসোলেশন কক্ষে সার্বক্ষণিক হামের চিকিৎসা হচ্ছে। সেখানে ঔষধ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হাম খুব দ্রুতই জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, চোখের ইনফেকশন, মস্তিস্কে প্রদাহ দ্রুত অবনতির দিকে যায়। আর তখনই হাইফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। হাইফ্লো অক্সিজেনেও যথাযথ ব্যবস্থা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মতবিনিময় সভায় শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, হাম ‘মূলত বসন্তকালে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটে থাকে শরীরে প্রচ- জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল, গলা ব্যথা, মুখে ক্ষত, শরীর দুর্বল, ক্ষুদামন্দা, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং জ্বর হওয়ার ৪/৫ দিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে দানার মতো র‌্যাশ উঠা হামের লক্ষণ। হাম প্রতিরোধে প্রথমত শিশুদের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য শিশুকে জন্মের ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাস পর বুকের দুধের সাথে বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। সময়মতো টিকা দিতে হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.