Take a fresh look at your lifestyle.

শেবাচিমের ওটিতে চিকিৎসাধীন শিশুর গালে থাপ্পড়, অফিস সহায়ক বরখাস্ত

৮২

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রোগীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অফিস সহায়ক জি এম নাজমুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ রোববার (৭ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশালের অর্থপেডিক্স ওটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় যে, সেখানে কর্মরত অফিস সহায়ক জি এম নাজমুল হাসান শিশুটিকে নির্যাতন করেছেন মর্মে শিশুটি এবং তার অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। শিশু নির্যাতন প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ-এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ৭ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এদিকে ওটিতে চিকিৎসাধীন শিশুর গালে থাপ্পড় মারার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজহাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. একে এম মশিউল মুনীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এতে হাসপাতালের আর এস (ক্যাজুয়ালটি) ডা. মো. মাজাহারুল রেজওয়ান কমিটির সভাপতি, সিনিয়র স্টাফ অফিসার ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেনকে সদস্য এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) মো. হাসান মেহমুদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থপেডিক ওটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় সেখানে কর্মরত অফিস সহায়ক জিএম নাজমুল হাসান শিশুটিকে নির্যাতন করেছেন। এ ব্যাপারে শিশুটি এবং তার অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা ছোট্ট রিমনকে শনিবার সকালে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর যখন তাকে ওটিতে নেওয়া হয়, চিকিৎসকরা জানান আঙুলটি আর রক্ষা করা সম্ভব নয়। এরপর চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন দেওয়ার সময় শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের ওটি সহায়ক শাহীন (নাজমুল)। তিনি রিমনের গালে এমনভাবে চড় মারেন যে, সেখানে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ পড়ে যায় এবং এমনকি চোখের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে রিমনের কান্নার শব্দ শুনে তারা ছুটে গিয়ে দেখেন এই করুণ দৃশ্য। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.