হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান মেডিভয়েসকে বলেন, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাস বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, নিহত সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। গাড়িতে বরের পরিবারের ১১ জন, কনের পরিবারের তিনজন এবং চালকসহ মোট ১৫ জন ছিলেন। এর মধ্যে বরের পরিবারের ১০ জন, কনের পরিবারের তিনজন ও চালকসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম, তিন ছেলে বর সাব্বির, ইমরান, আলামিন ও শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল, ঐশী এবং কনে মার্জিয়া মিতু, (২৫) কনের ছোট বোন লামিয়া (১২) কনের নানী (৫৮)। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩৬)।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
জানা যায়, বর সাব্বির হোসেন নববধূসহ আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সেই আনন্দের যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।
মোংলা উপজেলার শেওলাবুনিয়া গ্রামে সাব্বিরদের বাড়ি পৌঁছানোর আগেই খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি। এতে গাড়িতে থাকা ১৫ জনের মধ্যে বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
রাত ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন নিহত মিতুর বাবা আবদুস সালাম মোড়ল। বিয়ের লাল শাড়ি ও হাতে মেহেদি পরা মেয়ের লাশ দেখেই মূর্ছা যান তিনি। কিছু সময় পর জ্ঞান ফিরলেও তিনি কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। দুই মেয়ে ও মাকে হারিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু সময় পরপর বুক চাপড়াচ্ছিলেন তিনি। তাঁর কান্নায় উপস্থিত সবার চোখে জল নেমে আসে।