Saturday, May 16, 2026
Google search engine
Homeজানা অজানাবেলভিউ বরিশালের অব্যবস্থাপনার শিকার এক নবীন চিকৎসকের কান্না

বেলভিউ বরিশালের অব্যবস্থাপনার শিকার এক নবীন চিকৎসকের কান্না

মন্তব্য প্রতিবেদন :
আমার ইজান আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে।বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। পোস্টটা একটু বড় হবে।
প্রথমেই বলে নেই কারো প্রতি অভিযোগ নেই।

২১ তারিখ রাত এগারটায় ,জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার ইজানের জন্ম হয়।যেহেতু সাসপেক্টেড ফিটাল ডিসট্রেস ছিল,সেহেতু গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন।
সিজার হলো।ইজান দুনিয়াতে আসলো। মিউকোনিয়াম স্টেইন্ড একটা নিওনেট। হাতে,মাথায়,মুখে ওর মিউকোনিয়াম ছিল। আশিষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম ইজান কিছুটা দুর্বল।
যাই হোক আশিষ স্যার প্রেস্ক্রিবশন করলেন। স্যার,ফ্লুইড এবং এন্টিবায়োটিক দিলেন।অক্সিজেন দিলেন।
বলে রাখি,ইজান এর ওজন ১৯০০ গ্রাম এবং সাথে মিউকোনিয়াম স্টেইন্ড।
কিন্তু আশিস স্যার সুনির্দিষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি বা ইনকিউবেটরে রাখার কথা বললেন না। শুধু বললেন শেবাচিমে নিতে পারি। সেকেন্ড অপশন বেলভিউ।
সিদ্ধান্ত আমাদের উপর ছেড়ে দিলেন। আমি ডাক্তার ,কিন্তু আমি তো শিশু বিশেষজ্ঞ নই।
সিদ্ধান্ত তো স্যার দিবেন। জোর দিয়ে বলবেন এই বাচ্চাকে অবশ্যই ইনকিউবেটরে রাখতে হবে।স্যার জোর দিলে আমরা অবশ্যই নিতাম।

যাই হোক তারপরেও সিজারের এক ঘন্টা পর,রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম।
সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরে কিছুই লিখেন নাই।আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না।
তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল।
আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি।
সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না।
আমরা পরের দিন সকালে নিজেরাই চলে আসলাম কারণ আসলে ওখানে যা ট্রিটমেন্ট হচ্ছিল ,সেটা মমতায় রেখেই সম্ভব।

সিজারের পরের দিন:
সারাদিন ইজান ভালো ছিল।সম্ভবত দুপুরের দিকে আশিস স্যার দেখে যান।কিন্তু একটা কথাও ইজানের ব্যাপারে বলেন নাই।কিছুই বলেন নাই।আসলেন,দেখলেন,চলে গেলেন।
হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়।স্যাচুরেশন ফল করে।আবার অক্সিজেন লাগানো হলো।
এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশিস স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়।সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল?আর শেবাচিমে কোন ইনকিউবেটর নাই।

বাধ্য হয়ে নির্লজ্জের মত বেলভিউতে গিয়ে ভর্তি হলাম।বাজে তখন এগারটা। সেখানকার ডিউটি ডাক্তার কল দিল।আমি কল দিলাম।
আশিস স্যার জানে আমার শ্বশুর কার্ডিওলজির প্রফেসর ডা:ডা:হুমায়ুন কবির স্যার,আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রি ডাক্তার।
আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না
আমাদের আসলে বেলভিউ ছাড়া কোন অপশনও ছিল না।
শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন।
এনজি সাকশন দেয়া হলো।পেট থেকে অনেক খানি মিউকোনিয়াম বের হল।
আমার প্রশ্ন,আশিস স্যারের সিজারের পরেই এনজি সাকশন দেয়া উচিত ছিল না????
যাই হোক দুই দিন পরে ব্লাড টেস্ট,এক্সরে সব করালেন।

এক্সরে বললেন নরমাল।অথচ ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়ে শুনলাম লাংসে মিউকোনিয়াম স্টেইন্ড নিউমোনিয়া ছিল।
স্যার ,প্রতিদিন আসেন দুইবেলা। মুখে একটু হাত দেন,স্টেথো দিয়ে একটু বুকটায় ধরেন।অথচ একটা দিনও ওকে একটু উল্টাইয়া পাল্টাইয়া দেখলেন।দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না।আমাদেরও কিছু বলেন না।কথা একটাই,উন্নতি নাই।এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই।

এরপর তো আমরা ঢাকায়ই নিয়ে গেলাম। তবুও স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। বরিশালের একমাত্র ইনকিউবেটরে মালিক হয়ে,আমার বাচ্চাটাকে একটু ট্রিটমেন্ট করেছেন,ইনকিউবেটরে থাকতে দিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ

১.বেলভিউর রিসিপশনে বল্লাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার।আমাদের বাচ্চা।টেস্টে ডিসকাউন্ট আছে কিনা।
খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম।
২.একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা:নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ,ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়।
৩.বেলভিউতে মোট বিল আসে এক লাখ চোদ্দ হাজার টাকা।
অনেক সিনিয়র এক স্যার বলে দেবার পরে,আমাকে চার হাজার ডিসকাউন্ট দেয়।আমি অপমানিত বোধ করে সেটা নেই নাই।স্যারকে জানাই। স্যার ঝাড়ি দেবার পরে চোদ্দ হাজার টাকা কমায়।

বেলভিউতে এত অমানুষ এবং চামার এর ভীড়ে একটা মানুষ ছিলেন পজিটিভ এবং ভালো।সে হলেন গাইনীর নাহিদা আক্তার সুপা ম্যাম। ম্যামের আন্তরিকতা কখনোই ভুলব না।এছাড়া ইনকিউবেটরের দুইজন সিস্টার খুবই আন্তরিক ছিলেন।

আমার ছেলের হায়াত এই পর্যন্তই ছিল।কিন্তু বেলভিউ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে,অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে?

আর প্রিয় আশিষ স্যার,ঢাকা শিশু হাসপাতালের দেশ সেরা শিশু বিশেষজ্ঞদের একটু দেখে আসুন।
তাদের মানবিকবোধ,তাদের কাউন্সিলিং একটু শিখে আসুন।
একটু মানুষ হোন,স্যার।প্লিজ।
আপনি যদি সিজারের রাতেই আমার বাচ্চাটাকে ইনকিউবেটরে ভর্তির পরামর্শ দিতেন,আমরা সেটাই শুনতাম।
ডেলিভারির পরপর যদি গ্যাস্ট্রিক সাকশন দিতেন,তাইলে হয়তো মিউকোনিয়াম পেটে থেকে ওকে ইনফেকটেড করতে পারতো।

#বাংলাদেশে ডাক্তাররাই সব থেকে বেশি এই ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার হয়।

#আশিস স্যারের মনোপলি বাদে,আরো কোন ইনকিউবেটরে ব্যবস্থা থাকলে স্যার হয়তো একটু মানবিক হতেন।

#এক অসহায় বাবা যে তার সন্তানকে একটা বার কোলে নিতে পারে নাই।
সূত্র : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক থেকে নেয়া

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments