হেলথ ইনফো ডেস্ক :
থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে তাঁদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ দিবসটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতি অবলম্বন করেছে। থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে এই নীতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোগীর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে সরকার নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু হয়ে গেলে এই কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে একজন রোগী গ্রাম কিংবা শহর— যেখানেই চিকিৎসা গ্রহণ করুন না কেন, এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য দ্রুত জানতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুইজন থ্যালাসেমিয়া জিন-বাহকের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক হলে সন্তানের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রক্তরোগ প্রতিরোধে, বিশেষ করে জিন-বাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র— সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি সরকারের পাশাপাশি সব পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
