হেলথ ইনফো ডেস্ক :
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার—এই নীতিকে সামনে রেখে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে যেন কোনো মানুষ সর্বস্বান্ত না হন এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়—এ লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী, উপজেলা পর্যায়ে জরুরি সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বাড়ানো, মেডিকেল শিক্ষা আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই বর্তমান সরকারের সংকল্প।
তিনি বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য এই নীতির আলোকে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ অব্যাহত আছে। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের সংকল্প—চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর কেউ সর্বস্বান্ত হবে না।’
‘মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সকলের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাবেন, সামর্থ্য অনুযায়ী নয়’—যোগ করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান। বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় অ্যাম্বলেন্স পুল ও জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেন সময় মতো অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে কোনো মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা রোগী পরিবহন ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
‘মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী করার জন্য সরকারি মেডিকেলে কলেজ ও স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউসমূহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।’
‘স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য থাকবে সুসংগঠিত কর্মজীবন পরিকল্পনা। নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার—প্রত্যেকের আলাদা ক্যারিয়ার কাঠামো। যোগ্যতা ও কর্ম দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি-পদায়ন করা হবে। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে’—যোগ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি, নিরাপদ পরিবহন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকলের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সহযোগিতা অতীব প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা বিশেষায়িত মেডিকেল শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা সংকল্পবদ্ধ হলে আপামর জনগণকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পারবো। সম্পূর্ণ সফল না হলেও চেষ্টার ঘাটতি যেন না থাকে, যেন পিছিয়ে না যায়।’
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরদার সাখাওয়াত বলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সকলকেই যথাসময়ে অফিসে আসতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো দালালমুক্ত করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো চিকিৎসকসহ কর্মরত অনেকেই যথাসময়ে আসেন না বা অনুপস্থিত থাকেন—এই অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
অনুষ্ঠানে ইফতার মাহফিল উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, সদস্য সচিব ডা. রেজা মো. সামিউল হাসান (বাবু) উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ ড্যাবের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মো. শাহিদুল হাসান বাবুল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার-১ ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো প্রমুখসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকসহ ড্যাবের সকল পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।